ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এর আগে রোববার (১৭ মে) অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসন আমলের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। ওই দিন শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমান ও রিটকারী আইনজীবী মহসিন রশীদ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
শুনানি শেষে আইনজীবী এম কে রহমান সাংবাদিকদের বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে আমরা রিটটি করেছিলাম।
এই ১৮ মাসে অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসহ দেশের সর্বক্ষেত্রে একটি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা এখানে বাঞ্ছনীয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচিত সরকার এসেও বিষয়টিকে ওভারথ্রো (উপেক্ষা) করতে না পারে।
রিটকারী অপর আইনজীবী মহসিন রশীদ বলেন, এই সময়ে যা কিছু ঘটেছে, আমরা তার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছি। পুরো বিষয়টি কীভাবে তদন্ত হবে, তা সরকার ঠিক করবে।
গত শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল সময় নিয়েছিলেন সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা জানার জন্য। তবে আজ আদালত শুনানি শেষে রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন
ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে আইন অঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত রোববার (১৭ মে) হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছিল। সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ড তদন্তের দাবি জানানো হয়। আবেদনকারীরা দাবি করেন, এই সময়ে দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যখাত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নানা ধরনের অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
শুনানি শেষে আদালত ওই দিন আদেশের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছিলেন। নির্ধারিত দিনে শুনানি শেষে আদালত রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেন।
রিট আবেদনে বলা হয়, গত ১৮ মাসে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে অনিয়ম ও প্রশাসনিক দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।
আবেদনকারীরা ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট’-এর আওতায় তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান জানান। তাদের যুক্তি ছিল, ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলেও যেন এই সময়ের ঘটনাগুলো উপেক্ষিত না হয়।
রিটকারীদের পক্ষ থেকে আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমান এবং আইনজীবী মহসিন রশীদ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আইনজীবীদের বক্তব্যে উঠে আসে অরাজকতার অভিযোগ
শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে দেশের বিভিন্ন খাতে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা মনে করেন। বিশেষ করে অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যখাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের স্বার্থে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করা জরুরি। যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার পরিবর্তন হলেও এই সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্নগুলো চাপা পড়ে না যায়।
অন্যদিকে রিটকারী আইনজীবী মহসিন রশীদ বলেন, তারা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেননি। বরং এই সময়ে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছেন। তদন্তের পদ্ধতি ও কাঠামো সরকার নির্ধারণ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গত শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতের কাছে সময় চেয়েছিলেন। তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নেওয়ার জন্য সময় প্রয়োজন।
তবে বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত রিট আবেদনটি খারিজ করে দেন। আদালতের সংক্ষিপ্ত আদেশে রিট গ্রহণযোগ্য নয় বলে মত দেওয়া হয়েছে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
হাইকোর্টের এই আদেশকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একপক্ষ বলছে, আদালত সংবিধান ও আইনের আলোকে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। অন্যদিকে সমালোচকরা মনে করছেন, জনগণের স্বার্থে তদন্তের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আগে থেকেই বিতর্ক ছিল। সেই বিতর্কের ধারাবাহিকতায় আদালতে এই রিট আবেদন করা হয়। তবে আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত এই ইস্যুতে আইনি প্রক্রিয়ার একটি অধ্যায় শেষ হলো।
অন্তর্বর্তী সরকার ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় অন্তর্বর্তী সরকার ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। নির্বাচন, প্রশাসনিক সংস্কার ও রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতবিরোধ রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রিট খারিজের মাধ্যমে আদালত একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনগত ভিত্তি ও প্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সুসংগঠিত ও তথ্যভিত্তিক আবেদন আদালতে আসতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
হাইকোর্টের এই আদেশ দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রিট আবেদন খারিজ হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক যে শেষ হয়নি, সেটি স্পষ্ট।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্নে আদালতের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য দিকনির্দেশনা তৈরি করে। তাই এই আদেশও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক অঙ্গনে দীর্ঘ সময় আলোচনায় থাকবে।

