বলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়ায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন। অভিনয়ে এখন আগের মতো নিয়মিত না হলেও জনপ্রিয়তায় এতটুকু ভাটা পড়েনি তাঁর। বিশেষ করে কান চলচ্চিত্র উৎসব-এর লাল গালিচায় তাঁর উপস্থিতি আজও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
এ বছরের কান উৎসবেও কিছুটা দেরিতে হাজির হলেও নিজের সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস এবং ব্যক্তিত্ব দিয়ে নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী। শুধু ফ্যাশন নয়, নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জীবনবোধের বার্তাও দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও কেন আজও সমান প্রাসঙ্গিক ঐশ্বর্যা?
১৯৯৪ সালে বিশ্বসুন্দরীর মুকুট জয়ের পর থেকেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন ঐশ্বর্যা। এরপর একের পর এক সফল ছবিতে অভিনয় করে বলিউডে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেন তিনি।
গত কয়েক বছরে তাঁকে খুব বেশি ছবিতে দেখা না গেলেও দর্শকদের আগ্রহ তাঁর প্রতি একটুও কমেনি। কারণ, শুধুমাত্র অভিনেত্রী হিসেবেই নয়, একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবেও তিনি বহু মানুষের অনুপ্রেরণা।
ঐশ্বর্যার মতে, একজন শিল্পীর জীবন কখনও থেমে থাকে না। ক্যামেরার সামনে থাকুন বা না থাকুন, প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা একজন মানুষকে নতুন করে গড়ে তোলে। সেই কারণেই এখনও তিনি নিজেকে প্রতিনিয়ত শেখার মধ্যে রাখেন।
‘প্রত্যেকের জীবনযাত্রা আলাদা’
কান চলচ্চিত্র উৎসবের লাল গালিচায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বর্যা বলেন, প্রত্যেক মানুষের জীবন এবং যাত্রাপথ সম্পূর্ণ আলাদা। তাই অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা না করে নিজের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
অভিনেত্রীর কথায়, “শিল্প হোক বা অন্য কোনও ক্ষেত্র, সবার পথ একরকম হয় না। জীবনের অভিজ্ঞতাই মানুষকে সমৃদ্ধ করে। আপনার জন্য কোনটা ঠিক বা ভুল, সেটা আপনাকেই বুঝতে হবে।”
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি মূলত আত্মবিশ্বাস এবং আত্ম-উপলব্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। বর্তমান সময়ে সামাজিক মাধ্যমের প্রভাবে অনেকেই অন্যের জীবন দেখে নিজেকে বিচার করেন। ঐশ্বর্যার মতে, সেই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।
নিজের পছন্দকে ভালবাসার পরামর্শ
ঐশ্বর্যার বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল নিজের পছন্দকে সম্মান করার বার্তা। তিনি বলেন, মানুষকে নিজের সিদ্ধান্তের প্রতি সৎ থাকতে হবে। কারণ শেষ পর্যন্ত নিজের পাশে নিজেকেই দাঁড়াতে হয়।
তাঁর কথায়, “নিজেকেই নিজের সবচেয়ে ভাল বন্ধু হয়ে উঠতে হবে।”
বর্তমান প্রজন্মের জন্য এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকেই। কারণ আজকের দিনে মানুষ প্রায়শই সমাজ বা অন্যের মতামতের চাপে নিজের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিতে ভুলে যায়। ঐশ্বর্যা মনে করেন, নিজের ভেতরের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া না হলে প্রকৃত সাফল্য বা শান্তি পাওয়া সম্ভব নয়।
‘নির্মম সত্যের সামনে দাঁড়ান’
ঐশ্বর্যার আরও একটি মন্তব্য বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। তিনি বলেন, “নিজেকে নির্মম সত্যের সামনে দাঁড় করান।”
এই কথার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, জীবনে সফল হতে হলে নিজের দুর্বলতা, সীমাবদ্ধতা এবং বাস্তবতাকে স্বীকার করার সাহস থাকতে হবে। শুধুমাত্র বাইরের চাকচিক্য বা কৃত্রিমতা দিয়ে প্রকৃত শিল্প তৈরি হয় না।
অভিনেত্রীর মতে, বর্তমান সময়ে অনেক কিছুই অত্যন্ত কৃত্রিম ভাবে তৈরি করা হয়। ফলে নতুন কিছু আবিষ্কারের আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, জীবনের সত্যিকারের অভিজ্ঞতাই একজন শিল্পীকে সমৃদ্ধ করে।
নতুন কিছু শেখার মানসিকতার উপর জোর
ঐশ্বর্যা বিশ্বাস করেন, শেখার কোনও শেষ নেই। বয়স বা অভিজ্ঞতা যতই হোক না কেন, সব সময় নতুন কিছু জানার আগ্রহ থাকা উচিত।
তাঁর মতে, যে মানুষ নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করার চেষ্টা করে, তার কর্মজীবনের পথ অনেক বেশি সহজ এবং সুন্দর হয়ে ওঠে। এই কারণেই এখনও নিজেকে নতুন ভাবে আবিষ্কার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
কান চলচ্চিত্র উৎসবে ঐশ্বর্যার ফ্যাশন আবারও আলোচনায়
এ বছরও কানের লাল গালিচায় ঐশ্বর্যার উপস্থিতি ফ্যাশন দুনিয়ায় আলাদা করে নজর কেড়েছে। তাঁর সাজ, আত্মবিশ্বাস এবং উপস্থিতি নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছে।
ভারতের ফ্যাশন মহলের অনেকের মতে, ঐশ্বর্যা কান চলচ্চিত্র উৎসবের সঙ্গে এক বিশেষ আবেগের নাম। প্রতি বছর তাঁর উপস্থিতির জন্যই অপেক্ষা করে থাকেন অনুরাগীরা।

