ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মালবাহী ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় খুলনার সঙ্গে রাজশাহী, উত্তরবঙ্গ ও ঢাকার রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার কারণে কয়েক ঘণ্টা দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট রুটের ট্রেন পরিচালনাকারীরা। তবে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর রেল চলাচল আবারও স্বাভাবিক করা হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, খুলনার মোংলা বন্দর এলাকা থেকে ছেড়ে আসা ঈশ্বরদীগামী একটি মালবাহী ট্রেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর রেল স্টেশনের কাছে পৌঁছালে দুর্ঘটনার শিকার হয়। রাত প্রায় ৩টার দিকে ট্রেনটির পেছনের একটি বগি হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ এই রেলরুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে খুলনা অঞ্চলের সঙ্গে রাজশাহী, উত্তরবঙ্গ ও ঢাকার রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রাতের বেলায় দুর্ঘটনা ঘটলেও এর প্রভাব পড়ে সকালের ট্রেন চলাচলেও।
লাইনচ্যুত ট্রেনের কারণে বেশ কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে। যাত্রীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। বিশেষ করে সকালে অফিসগামী যাত্রী ও দূরপাল্লার ট্রেনযাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। অনেকেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান পরিস্থিতি দেখতে। তবে বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
সাফদারপুর রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার গোলাম রসুল নয়ন জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়। খুলনা থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন সকাল ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর দ্রুত লাইনচ্যুত বগিটি সরিয়ে রেললাইন সচল করার কাজ শুরু হয়।
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকারী দলের তৎপরতায় মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে সকাল ৮টার দিকে রেললাইন পুরোপুরি সচল হয় এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়।
রেল কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে দীর্ঘ সময় রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকেনি। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ধারকারী দলের দক্ষতা ও তাৎক্ষণিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কী কারণে বগিটি লাইনচ্যুত হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা রেললাইনের কারিগরি সমস্যার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এই দুর্ঘটনার পর আবারও দেশের রেলপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রায়ই দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে যাত্রী নিরাপত্তা ও রেল অবকাঠামোর মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরোনো রেললাইন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং যান্ত্রিক ত্রুটি অনেক সময় এমন দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই রেলপথকে নিরাপদ রাখতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নিয়মিত তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
দুর্ঘটনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর খুলনা-রাজশাহীসহ উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের রেল যোগাযোগ আবারও স্বাভাবিক হয়েছে। বর্তমানে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচল করছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

