ঈদের পর সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান ও শপিংমল বন্ধের নির্দেশ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

Share

কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনতে সরকার সাময়িকভাবে দোকানপাট ও শপিংমল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছিল। তবে ঈদের পর বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে আবারও আগের নিয়মে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই দোকান-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শপিংমল বন্ধ রাখতে হবে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে যেসব বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা শুধুমাত্র নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ঈদের পর বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে পূর্বের নিয়ম পুনরায় কার্যকর করা হবে।

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কেনাকাটার চাপ বাড়তে শুরু করেছে। এ কারণে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে সরকার বিশেষ সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দোকানপাট ও শপিংমল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হয়।

ব্যবসায়ীরা মনে করেছিলেন, অতিরিক্ত সময় খোলা রাখার সুযোগে বিক্রি বাড়বে এবং ঈদের বাজার আরও জমে উঠবে। বিশেষ করে পোশাক, জুতা, কসমেটিকস, ইলেকট্রনিক্স ও কোরবানির ঈদ সংশ্লিষ্ট পণ্যের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ও বেড়েছিল।

তবে সরকার শুরু থেকেই জানিয়েছিল, এটি একটি সাময়িক সিদ্ধান্ত। ঈদের পর আবারও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের স্বার্থে আগের নিয়ম কার্যকর করা হবে।

নতুন বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে এবং জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে দোকানপাট ও শপিংমল সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখতে হবে।

সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। গ্রীষ্মকাল ও সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগ বিভিন্ন খাতে ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দ্রুত বন্ধ রাখার নির্দেশনা আগেও দেওয়া হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাত পর্যন্ত বড় বড় শপিংমল খোলা থাকলে বিদ্যুতের ব্যবহার কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে এসি, লাইটিং, লিফট ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। তাই সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ রাখার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনস্থ সব দপ্তর ও সংস্থাকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। শুধু অফিসে বসে নয়, তারা যেসব এলাকায় ঈদের ছুটিতে অবস্থান করবেন, সেখানকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও সরেজমিনে তদারকি করতে হবে।

সরকার চায়, ঈদের সময় যেন কোথাও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট না ঘটে। কারণ ঈদের সময় পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মানুষের ঘরে অবস্থান বাড়ে এবং বিদ্যুতের চাহিদাও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি থাকে।

বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে গিয়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে হবে এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক দিকনির্দেশনা দিতে হবে।

এছাড়া ঈদকালীন সময়ে তারা কোথায় কী ধরনের পরিস্থিতি দেখেছেন, কী সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগ বরাবর জমা দিতে হবে।

সরকারি সূত্র বলছে, অতীতে ঈদের ছুটিতে অনেক এলাকায় হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেওয়ায় ভোগান্তি তৈরি হয়েছিল। তাই এবার আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে থাকতে চাইছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। আবার অনেক ব্যবসায়ী মনে করছেন, সন্ধ্যার পরই মূলত ক্রেতাদের ভিড় বাড়ে। তাই কম সময় খোলা রাখলে বিক্রি কমে যেতে পারে।

বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে অফিস শেষে মানুষ সাধারণত সন্ধ্যার পর কেনাকাটা করতে বের হন। ফলে ব্যবসায়ীরা চান, অন্তত উৎসব-পরবর্তী কিছুদিন বাড়তি সময় খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হোক।

তবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বিবেচনায় সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকার শুধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়, সাধারণ জনগণকেও অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে দিনের বেলায় অপ্রয়োজনীয় লাইট, এসি বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এখন শুধু সরকারি নির্দেশনা নয়, বরং জাতীয় দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। ছোট ছোট সচেতনতা বড় ধরনের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ঈদের আনন্দের মধ্যেও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতনতা বাড়লে একদিকে যেমন জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাও সহজ হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

spot_imgspot_img

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন