পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে টানা সাত দিন বন্ধ থাকবে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল স্থলবন্দর ও ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যকার সকল পণ্যবাহী কার্যক্রম আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। এতে করে এই সময়ের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে কোনো ধরনের পণ্য আমদানি কিংবা রপ্তানি হবে না।
তবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে ঈদ উপলক্ষে যেসব যাত্রী ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করবেন, তাদের জন্য কোনো ধরনের বিধিনিষেধ থাকছে না।
বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুর রহমান জানিয়েছেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বন্দরের বিভিন্ন ব্যবহারকারী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৪ মে) সকাল ১০টার দিকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে টানা সাত দিনের জন্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।
তিনি বলেন, ঈদের সময় ব্যবসায়ী, শ্রমিক, চালক ও বন্দরের সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটির বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ভারতের ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এই সময়ের মধ্যে বন্দরের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের পণ্য ওঠানো-নামানোও হবে না। অর্থাৎ পণ্যবাহী ট্রাকের প্রবেশ, পণ্য খালাস কিংবা লোড-আনলোড কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের সময় দীর্ঘ ছুটি থাকায় সাধারণত ব্যবসায়িক কার্যক্রম কিছুটা ধীর হয়ে পড়ে। তাই প্রতি বছরের মতো এবারও বন্দর ব্যবহারকারীরা সম্মিলিতভাবে কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১ জুন থেকে পুনরায় বেনাপোল স্থলবন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম চালু হবে। আমদানি-রপ্তানি, পণ্য পরিবহন, কাস্টমস কার্যক্রম এবং বন্দরের অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে পরিচালিত হবে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, ঈদের ছুটি শেষে বন্দরের কার্যক্রম আবারও পুরোদমে শুরু হবে। তখন বন্দরের স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে এবং ব্যবসায়ীরা আগের মতো আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোর্তজা হোসেন জানিয়েছেন, সীমান্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও যাত্রী পারাপারে কোনো প্রভাব পড়বে না। বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রীরা আগের মতোই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, সপ্তাহের সাত দিনই ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট খোলা থাকে। তাই ঈদের সময়েও যাত্রীদের সেবা কার্যক্রম চালু থাকবে। বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রী চলাচল বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানিয়েছেন, সরকারি ছুটি ছাড়া কাস্টমসের অফিসিয়াল কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। ব্যবসায়ীরা চাইলে প্রয়োজনীয় শুল্ক ও কর পরিশোধ করে বন্দরে থাকা পণ্য খালাস নিতে পারবেন।
তিনি বলেন, কাস্টমস কর্মকর্তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন যাতে ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়েন। যদিও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে, তারপরও বন্দরে আটকে থাকা পণ্য খালাসের সুযোগ থাকবে।
বেনাপোল স্থলবন্দর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত। দেশের মোট স্থলবন্দরভিত্তিক বাণিজ্যের বড় একটি অংশ এই বন্দর দিয়েই সম্পন্ন হয়। ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কাঁচামাল ও শিল্পপণ্য আমদানি করা হয় এই বন্দর দিয়ে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও বিভিন্ন পণ্য ভারতে রপ্তানি করা হয়।
ঈদুল আজহার মতো বড় ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই বন্দরের কার্যক্রমে সাময়িক বিরতি দেখা যায়। তবে ছুটি শেষে আবারও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে বন্দর এলাকা। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এবারের ছুটির পরও দ্রুত বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে এবং বাণিজ্যে কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে না।

