স্বর্ণের দাম আবার কমলো: আজ দেশের বাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণ কত দামে বিক্রি হচ্ছে জানুন

Share

বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্য সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকে দেশের বাজারে কম দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ। সর্বশেষ সমন্বয়ে প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম। ফলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মাঝে।

বিশ্ববাজারের পরিবর্তন, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়া এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস। বুধবার (২০ মে) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দামের তথ্য জানানো হয়। ওইদিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন দর কার্যকর হয়েছে।

নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকায়। এছাড়া বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের দামও কমানো হয়েছে।

বর্তমানে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৩২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকায়। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা।

এই মূল্য দেশের সব জুয়েলারি দোকানে কার্যকর থাকলেও ভ্যাট ও মজুরি খরচ যোগ হয়ে দোকানভেদে কিছুটা পার্থক্য দেখা যেতে পারে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ার কারণেই নতুন করে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং আমদানি ব্যয়ের প্রভাবও দেশের বাজারে সরাসরি পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছে। এর প্রভাবেই দেশের বাজারে দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি কতদিন থাকবে, তা নির্ভর করছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা এবং বিনিয়োগকারীদের আচরণের ওপর।

এর আগেও চলতি মাসে একবার স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। সর্বশেষ ১৬ মে বাজুস ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করেছিল।

সেই সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হয়েছিল ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের দাম ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।

মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও দাম কমায় বাজারে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই এখন অপেক্ষা করছেন দাম আরও কমে কিনা তা দেখার জন্য।

চলতি বছর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে ব্যাপক ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। এখন পর্যন্ত ২০২৬ সালে মোট ৬৬ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩১ বার কমানো হয়েছে।

এতে বোঝা যাচ্ছে, স্বর্ণের বাজার বর্তমানে অত্যন্ত অস্থির অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কখনো আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, আবার কখনো ডলারের দামের পরিবর্তনের কারণে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে স্বর্ণের দাম।

শুধু চলতি বছর নয়, ২০২৫ সালেও দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছিল। ওই বছরে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে বিনিয়োগের অন্যতম নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য পরিবর্তন হলেও তার প্রভাব দেশের বাজারে দ্রুত পড়ে।

স্বর্ণের দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন সাধারণ ক্রেতা ও গহনা ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে বিয়ে বা বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য যারা স্বর্ণ কিনতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য এটি ভালো খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা না থাকায় ক্রেতাদের এখনো সতর্ক থাকা উচিত। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে দাম বাড়লে দেশের বাজারেও আবার স্বর্ণের দাম বাড়তে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করছেন, স্বর্ণ কেনার জন্য এটি তুলনামূলক সুবিধাজনক সময় হতে পারে। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাজার পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সংবাদ

spot_imgspot_img

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন