লতিফ সিদ্দিকী, সাবের হোসেন ও আনিস আলমগীরকে গ্রেফতারের দাবি; আন্দোলনের হুঁশিয়ারি মঞ্চ-২৪-এর

Share

তোফায়েল আহমেদের জানাজাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। জানাজায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী, সাবের হোসেন চৌধুরী এবং সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে সংগঠন ‘মঞ্চ-২৪’।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী এ দাবি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা তাদের পক্ষে কাজ করছে বলে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ফাহিম ফারুকী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে মঞ্চ-২৪ সরাসরি আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হলে সাধারণ মানুষ আবারও রাজপথে নেমে আসবে।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। তাই নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় আন্দোলনই শেষ ভরসা হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মঞ্চ-২৪-এর আহ্বায়ক আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়েও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে বহু মানুষের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের রাজনীতি পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয় বলে তিনি দাবি করেন।

এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কোনো সংগঠন, সহযোগী গোষ্ঠী বা সমর্থকদের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের বহুল আলোচিত ১/১১-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও উঠে আসে। ফাহিম ফারুকী দাবি করেন, সেই সময়ের ঘটনাবলীর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন।

তার মতে, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে, তাদের কর্মকাণ্ড নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। তিনি বিশেষভাবে কিছু গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং তাদের কার্যক্রম পর্যালোচনার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়। ফাহিম ফারুকী বলেন, একটি পক্ষের কর্মসূচিতে কঠোর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অন্য একটি পক্ষকে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সকল নাগরিক ও রাজনৈতিক পক্ষের ক্ষেত্রে সমান নীতি অনুসরণ করা। কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে মঞ্চ-২৪। সংগঠনটির আহ্বায়ক বলেন, সরকার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি খুব বেশি দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, জনগণ এই ঘটনার দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার প্রত্যাশা করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচারকাজ শেষ না হলে বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা ও স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এস আলম গ্রুপ সম্পর্কেও অবস্থান তুলে ধরা হয়। মঞ্চ-২৪-এর নেতারা বলেন, বিতর্কিত কোনো ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে তারা তার বিরোধিতা করবেন।

তাদের মতে, অর্থনৈতিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে অতীতের অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। ফাহিম ফারুকী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা থাকা জরুরি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি কোনো সরকার ভিন্নমত দমনের নীতি গ্রহণ করে, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকলেও নাগরিক অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মঞ্চ-২৪-এর সংবাদ সম্মেলন দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গ্রেফতারের দাবি, বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতার বিষয়গুলো সামনে এনে সংগঠনটি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

এখন সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও দাবিগুলোর বিষয়ে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের নজর থাকবে। একই সঙ্গে এসব ইস্যু আগামী দিনের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সর্বশেষ সংবাদ

spot_imgspot_img

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন