আসিন থোট্টুমকাল: বিয়ের পর কেন অভিনয় ছেড়ে আড়ালে চলে গেলেন ‘গজনি’ খ্যাত এই তারকা?

Share

বলিউডে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা যেমন কঠিন, তেমনি ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে স্বেচ্ছায় অভিনয় ছেড়ে দেওয়া আরও বিরল ঘটনা। অথচ এমনই এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন ‘গজনি’ খ্যাত অভিনেত্রী আসিন থোট্টুমকাল। দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে দারুণ সাফল্যের পর বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেও মাত্র ৩০ বছর বয়সে অভিনয়জগৎকে বিদায় জানান তিনি। আজও অনেক ভক্তের মনে প্রশ্ন জাগে—কেন হঠাৎ করে হারিয়ে গেলেন সেই জনপ্রিয় অভিনেত্রী?

অভিনয় জীবনের শুরুতেই দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন আসিন থোট্টুমকাল। তামিল, তেলেগু ও মালয়ালাম ভাষার একাধিক ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন দক্ষ ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে।

তার অভিনয় দক্ষতা এবং পর্দায় প্রাণবন্ত উপস্থিতি খুব দ্রুতই তাকে দর্শকদের কাছে প্রিয় মুখে পরিণত করে। দক্ষিণের সাফল্যের পর বলিউডে পা রাখেন তিনি, আর সেখানেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের অবস্থান শক্ত করে নেন।

২০০৮ সালে মুক্তি পায় আমির খান অভিনীত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘গজনি’। এটি ছিল একই নামের তামিল চলচ্চিত্রের হিন্দি রিমেক। সিনেমাটি শুধু ব্যবসায়িকভাবেই সফল হয়নি, বরং বলিউডের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় যোগ করে। ‘গজনি’ ছিল প্রথম হিন্দি চলচ্চিত্র যা ১০০ কোটির বেশি রুপি আয় করতে সক্ষম হয়।

এই সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে আসিন রাতারাতি সারা ভারতের পরিচিত মুখে পরিণত হন। তার অভিনীত কাল্পনা চরিত্রটি দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নেয়। সিনেমাটির সাফল্যের পর বলিউডে তার চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

‘গজনি’র পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আসিনকে। তিনি বলিউডের শীর্ষ নায়কদের সঙ্গে একাধিক সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

Images 10000 05

সালমান খানের বিপরীতে ‘রেডি’, অক্ষয় কুমারের সঙ্গে ‘হাউসফুল ২’ এবং ‘খিলাড়ি ৭৮৬’, অজয় দেবগনের সঙ্গে ‘বোল বচ্চন’ এবং অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে ‘অল ইজ ওয়েল’ সিনেমায় দেখা যায় তাকে।

বিশেষ করে ‘রেডি’, ‘বোল বচ্চন’ ও ‘হাউসফুল ২’-এর সাফল্য তাকে বলিউডের অন্যতম নির্ভরযোগ্য বাণিজ্যিক অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তার অভিনীত অধিকাংশ ছবিই বক্স অফিসে ভালো ব্যবসা করে, যা তাকে প্রযোজক ও পরিচালকদের পছন্দের তালিকায় নিয়ে আসে।

সফলতার ধারাবাহিকতার মধ্যেই ২০১৫ সালে মুক্তি পায় ‘অল ইজ ওয়েল’। অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে অভিনীত এই ছবিটিই ছিল আসিনের শেষ সিনেমা।

তখনও কেউ কল্পনা করতে পারেননি যে এটি তার অভিনয় জীবনের শেষ অধ্যায় হয়ে থাকবে। কারণ সে সময় তিনি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে অবস্থান করছিলেন এবং সামনে আরও বড় বড় সুযোগ অপেক্ষা করছিল।

আসিনের ব্যক্তিগত জীবনও কম আলোচিত ছিল না। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি বিয়ে করেন ভারতীয় প্রযুক্তি উদ্যোক্তা রাহুল শর্মাকে। রাহুল ভারতের জনপ্রিয় মোবাইল ফোন ব্র্যান্ড মাইক্রোম্যাক্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা।

মজার বিষয় হলো, এই সম্পর্কের সূচনা ঘটেছিল অভিনেতা অক্ষয় কুমারের মাধ্যমে। তিনিই প্রথম রাহুল ও আসিনের পরিচয় করিয়ে দেন। সময়ের সঙ্গে সেই পরিচয় গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্কে, যা শেষ পর্যন্ত বিয়েতে রূপ নেয়।

তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হিন্দু ও খ্রিষ্টান—উভয় ধর্মীয় রীতিতে সম্পন্ন হয়। সেই সময় এই বিয়ে ছিল বলিউডের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।

বিয়ের পর অনেক অভিনেত্রী অভিনয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ মাতৃত্বের পর নতুন উদ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন। তবে আসিন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নেন।

তিনি সিদ্ধান্ত নেন পরিবার, স্বামী এবং ভবিষ্যৎ সন্তানকে সময় দেওয়ার। ফলে মাত্র ৩০ বছর বয়সেই অভিনয়জগৎ থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ান। তার এই সিদ্ধান্ত ভক্তদের অবাক করলেও তিনি নিজের অবস্থানে অটল থাকেন।

অনেক প্রযোজক ও নির্মাতার প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও তিনি আর নতুন কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি।

২০১৭ সালে আসিন ও রাহুল শর্মার সংসারে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান আরিন রায়ন শর্মা। মেয়ের জন্মের পর পরিবারই হয়ে ওঠে তার জীবনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।

বর্তমানে তিনি অধিকাংশ সময় পরিবারের সঙ্গেই কাটান। জনসমক্ষে খুব কম দেখা যায় তাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি খুব বেশি সক্রিয় নন।

তবে বিশেষ উপলক্ষ, মেয়ের জন্মদিন কিংবা পারিবারিক কিছু আনন্দঘন মুহূর্তে ছবি শেয়ার করে ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।

রাহুল শর্মা একসময় ভারতের মোবাইল বাজারে অন্যতম আলোচিত উদ্যোক্তা ছিলেন। তার সহপ্রতিষ্ঠিত মাইক্রোম্যাক্স স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোন বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

পরবর্তীতে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর প্রবল প্রতিযোগিতার কারণে কোম্পানিটির বাজার অংশীদারত্ব কমে যায়। তবুও রাহুল এখনও ভারতের প্রযুক্তি অঙ্গনের পরিচিত ও সম্মানিত উদ্যোক্তাদের একজন হিসেবে বিবেচিত হন।

আজও অসংখ্য ভক্ত আসিনের বড় পর্দায় ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। তার অভিনয় দক্ষতা, সরল ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রিয় চরিত্রগুলো এখনও দর্শকদের মনে জায়গা করে আছে।

তবে এখন পর্যন্ত তিনি অভিনয়ে ফেরার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি। বরং ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবারকেই অগ্রাধিকার দিয়ে চলেছেন।

দিল্লি ও মুম্বাইয়ে পরিবার নিয়ে তিনি এখন বিলাসবহুল কিন্তু তুলনামূলক ব্যক্তিগত জীবনযাপন করছেন। জনপ্রিয়তার আলো থেকে দূরে থাকলেও ভক্তদের আগ্রহ তার প্রতি এতটুকুও কমেনি।

বলিউডে অনেক তারকা জনপ্রিয়তা হারিয়ে আড়ালে চলে যান। কিন্তু আসিন থোট্টুমকালের গল্প ভিন্ন। তিনি ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে স্বেচ্ছায় অভিনয় ছেড়ে পরিবারকে বেছে নিয়েছেন। ‘গজনি’ থেকে ‘রেডি’ কিংবা ‘হাউসফুল ২’—তার অভিনীত সিনেমাগুলো এখনও দর্শকদের মনে সমানভাবে জনপ্রিয়। আর সেই কারণেই দীর্ঘদিন পরও ভক্তরা জানতে চান, কোথায় আছেন ‘গজনি’র সেই প্রিয় নায়িকা?

সর্বশেষ সংবাদ

spot_imgspot_img

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন