দেশের এক দিকে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে পুড়ছে মানুষ, অন্য দিকে হিমালয়ের উপরে তৈরি হয়েছে ভয়ংকর আবহাওয়ার পরিস্থিতি। উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে বিশাল উল্লম্ব মেঘরাশি, যা ইতিমধ্যেই ভারতের উত্তরাংশে দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি করেছে। আবহবিদদের মতে, শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝা-র প্রভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড-এর বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবল বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়ল বিশাল মেঘরাশি
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয়ের উপরে যে মেঘরাশি তৈরি হয়েছে তা সাধারণ মেঘ নয়। এটি অত্যন্ত উঁচুতে বিস্তৃত এক ধরনের উল্লম্ব মেঘস্তর, যা সাধারণত প্রবল বজ্রঝড় এবং অতিভারী বৃষ্টির ইঙ্গিত দেয়।
উপগ্রহ চিত্রে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে এই মেঘরাশি দ্রুত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় আচমকা আবহাওয়ার পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এই আবহাওয়া?
গরমের মরসুমে উত্তর ভারতের পাহাড়ি এলাকায় এমন প্রবল বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক নয় বলেই মনে করছেন আবহবিদেরা। এই ধরনের পরিস্থিতিতে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস, রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ইতিমধ্যেই আবহাওয়া দফতর হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় বজ্রপাতের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ফলে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দেশের এক প্রান্তে তাপপ্রবাহ, অন্য প্রান্তে বর্ষার অপেক্ষা
এই মুহূর্তে দেশের আবহাওয়া যেন দুই বিপরীত ছবির সাক্ষী। এক দিকে উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অংশ ভয়াবহ গরমে পুড়ছে। অন্য দিকে দক্ষিণ ভারতে বর্ষা প্রবেশের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছে।
সাধারণত কেরালা দিয়ে ১ জুন ভারতের মূল ভূখণ্ডে বর্ষা প্রবেশ করে। তবে এ বছর আবহাওয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে বর্ষা আগেভাগেই ঢুকে পড়তে পারে বলে মনে করছেন আবহবিদেরা।
২৬ মে-ই কেরালায় বর্ষা ঢোকার সম্ভাবনা
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু নির্ধারিত সময়ের আগেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে ২৬ মে-র মধ্যেই কেরালায় বর্ষা প্রবেশ করতে পারে।
ইতিমধ্যেই আরব সাগর-এর উপর প্রচুর মেঘের সঞ্চার দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি ভারত মহাসাগর থেকেও বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প প্রবেশ করছে দক্ষিণ ভারতের দিকে।
এই কারণেই কেরালায় বর্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানাচ্ছেন আবহবিদেরা।
বাংলাতেও মিলতে পারে গরম থেকে স্বস্তি
অন্য দিকে পশ্চিমবঙ্গ-এ দীর্ঘদিনের অসহনীয় গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে। তবে তার আগে পর্যন্ত গরম এবং অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকবে।
কেন তৈরি হচ্ছে এমন চরম আবহাওয়া?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনের কারণেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। কোথাও অতিরিক্ত গরম, কোথাও আচমকা ভারী বৃষ্টি— এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি এখন প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠছে।
হিমালয়ের উপর পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সক্রিয়তা এবং দক্ষিণে দ্রুত বর্ষা আগমন— দুই ঘটনাই সেই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আবহবিদেরা।

