ফলতায় রেকর্ড জয়ের পর বাংলাকে শুভেচ্ছা মোদীর! বললেন, গণতন্ত্র জিতেছে, হারেছে ভয়ভীতি ও হুমকি

Share

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন ইতিহাস তৈরি করল ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র। এক লাখেরও বেশি ভোটে বিজেপির অভূতপূর্ব জয়ের পর এ বার বাংলার মানুষকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। সমাজমাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, এই ফলাফল আসলে গণতন্ত্রের জয় এবং ভয়ভীতি ও হুমকির রাজনীতির পরাজয়।

ফলতা উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে এই বিপুল ব্যবধান নিয়ে। বিজেপির প্রার্থী Debangshu Panda ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে জয়ী হয়েছেন। এত বড় ব্যবধান শুধু বিজেপি শিবিরকেই উজ্জীবিত করেনি, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

মোদীর বার্তায় গণতন্ত্রের জয়গান

ফলাফল ঘোষণার পর সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “ফলতাবাসী নিজেদের রায় দিয়ে দিয়েছে। গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। ভয়ভীতি-হুমকি হেরে গিয়েছে।”

এর পরেই তিনি ফলতার মানুষকে ধন্যবাদ জানান এবং বিজেপির প্রতি পশ্চিমবঙ্গবাসীর আস্থার কথা উল্লেখ করেন। মোদীর কথায়, “এটি প্রমাণ করে যে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিজেপির উপর অটুট বিশ্বাস রাখছেন।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি উপনির্বাচনের ফল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দেয় যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক লড়াইকে বিজেপি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।

ফলতায় বিজেপির রেকর্ড জয়

এই নির্বাচনে বিজেপির জয় অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। কারণ ভোটের আগেই তৃণমূল প্রার্থী Jahangir Khan প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান। তবে বিজেপি যে এত বিশাল ব্যবধানে জয় পাবে, তা অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকও অনুমান করতে পারেননি।

ফলতায় তৃণমূল কংগ্রেস চতুর্থ স্থানে নেমে যাওয়াও রাজনৈতিক ভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই ফলকে বিজেপি তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের বড় প্রমাণ হিসাবেই তুলে ধরছে।

বাংলায় বিজেপি সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরলেন মোদী

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় শুধু জয় উদ্‌যাপনেই থেমে থাকেননি। তিনি নতুন বিজেপি সরকারের কাজের কথাও উল্লেখ করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন কলকাতার Brigade Parade Ground থেকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়। মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari-র নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই একাধিক জনমুখী প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্প এবং সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাত্রা পরিষেবা। আগামী ১ জুন থেকে এই পরিষেবা চালু করার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।

এ ছাড়াও সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের জন্য বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের কাজও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

মোদী তাঁর বার্তায় লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ কাজ করছে। মানুষ তা লক্ষ্য করেছেন। সেই কারণেই তাঁরা আবার আমাদের আশীর্বাদ করেছেন।”

বিধানসভায় আরও শক্তিশালী বিজেপি

ফলতার এই জয় রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণ খুব বেশি না বদলালেও বিধানসভায় বিজেপির শক্তি আরও কিছুটা বাড়িয়ে দিল। বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ২০৭ থেকে বেড়ে ২০৮ হয়েছে।

সংখ্যার বিচারে এই পরিবর্তন ছোট হলেও রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন সরকার গঠনের মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যেই এই বিপুল জয় বিজেপির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ফলতার ফলাফল দেখিয়ে বিজেপি বোঝাতে চাইছে যে পশ্চিমবঙ্গে তাদের সমর্থনের ভিত্তি আরও মজবুত হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ জয়কে বিশেষ গুরুত্ব বিজেপির

প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তা থেকে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট— পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক লড়াইকে বিজেপি জাতীয় স্তরেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

সম্প্রতি ইউরোপ সফরে গিয়ে নেদারল্যান্ডসে পশ্চিমবঙ্গের ঝালমুড়ির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন মোদী। সেই মন্তব্যও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলা এখন বিজেপির কাছে শুধু একটি রাজ্য নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

তৃণমূলের জন্য কি বড় সতর্কবার্তা?

ফলতার ফলাফল নিয়ে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে। কারণ শুধু হার নয়, বিপুল ব্যবধান এবং চতুর্থ স্থানে নেমে যাওয়া রাজনৈতিক ভাবে অস্বস্তিকর বলেই মনে করছেন অনেকেই।

যদিও উপনির্বাচনের ফল সব সময় বৃহত্তর জনমতের প্রতিফলন নয়, তবুও এই ফল বিজেপিকে রাজনৈতিক ভাবে বড় অক্সিজেন দিয়েছে।

এখন দেখার, ফলতার এই রেকর্ড জয় ভবিষ্যতের রাজ্য রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে এবং বিজেপি এই জনসমর্থনকে আগামী নির্বাচনে কতটা কাজে লাগাতে পারে।

সর্বশেষ সংবাদ

spot_imgspot_img

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন