পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে দেশে ফিরলেন ৩৬ বাংলাদেশি, দুই বছর কারাভোগের পর বেনাপোলে হস্তান্তর

Share

ভারত থেকে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ৩৬ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ দুই বছর কারাভোগের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।রিপোর্ট করছেন বেনাপোল প্রতেবেদক।

ফেরত আসা এসব বাংলাদেশি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা গেছে। কাজের সন্ধানে দালালের মাধ্যমে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে তারা ভারতের চেন্নাইয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে বিভিন্ন ইটভাটা ও কৃষি খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তারা। তবে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় একপর্যায়ে ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন এবং পরে কারাভোগ করতে হয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৬ বাংলাদেশিকে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। দুই দেশের সরকারের সমন্বয়ে বিশেষ ট্রাভেল পারমিট ইস্যুর মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরানো হয়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, ফেরত আসা সবাই পুরুষ এবং তাদের বয়স ২১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে ২৫ জনের বাড়ি বগুড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায়। এছাড়া বাকিদের বাড়ি সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, নাটোর ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন স্থানে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে উন্নত জীবনের আশায় এবং কাজের সন্ধানে তারা দালাল চক্রের মাধ্যমে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যান। রাতের আঁধারে অবৈধ পথে চেন্নাইয়ে প্রবেশ করেন তারা। সেখানে কম মজুরিতে বিভিন্ন ইটভাটা ও কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিলেন।

কিন্তু বৈধ পাসপোর্ট কিংবা ভিসা না থাকায় ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসেন তারা। পরে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে। আদালতের নির্দেশে তাদের চেন্নাই কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

আটকের পর প্রায় দুই বছর ভারতের চেন্নাই কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন এসব বাংলাদেশি। পরে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগ ও যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এরপর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফেরার সুযোগ পান তারা।

ফেরত আসা ব্যক্তিদের অনেকেই দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। দেশে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফেরার সুযোগ পেয়ে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা আলী জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার সংস্থা “জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার” তাদের গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।

সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে মানবপাচারকারী ও দালাল চক্র। কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে অবৈধভাবে ভারতে পাঠায়। পরে এসব মানুষ নানা ধরনের হয়রানি, নির্যাতন ও আইনি জটিলতার শিকার হন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতার অভাব এবং দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় অনেক তরুণ দালালদের ফাঁদে পা দেন। ফলে তাদের জীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারও দীর্ঘদিন প্রিয়জনের খোঁজ পান না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বিদেশে কাজের জন্য অবশ্যই বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা ও সরকারি অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত। অবৈধ পথে বিদেশে গেলে কারাভোগ, নির্যাতন ও মানবপাচারের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

এদিকে দেশে ফেরত আসা ৩৬ বাংলাদেশির ঘটনা আবারও সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় দালাল চক্রের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মানবপাচার রোধে সীমান্ত নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।

দীর্ঘ দুই বছর পর দেশে ফিরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ফেরত আসা বাংলাদেশিরা। পরিবারের সদস্যরাও প্রিয়জনকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অনেকের চোখে ছিল আনন্দের অশ্রু।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ফেরত আসাদের প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে নিজ নিজ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

spot_imgspot_img

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন