বেনাপোলে নিরাপত্তাকর্মী ইউনুস আলী হত্যা মামলায় আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই যশোর। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গামছাও উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাতে শার্শার গোগা বাগানপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। সোমবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার সোহেল রানা বেনাপোলের রহমতপুর গ্রামের কুদ্দুস সিকদারের ছেলে।
এর আগে এ মামলায় রহমতপুর গ্রামের তরিকুল ইসলাম ও সবুজ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে সোহেল রানার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।
নিহত ইউনুস আলী (৪৭) ছোট আঁচড়া গ্রামের মৃত মোস্তাব আলীর ছেলে। তিনি বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিতে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে আনোয়ার ও ইউনুস সোহেল রানার ঘরে যান। সেখানে আনোয়ারের কথায় সোহেল ১০টি ইয়াবা কিনে আনেন। পরে একটি ইয়াবা সোহেল নিজে সেবন করেন এবং বাকি নয়টি আনোয়ার ও ইউনুস সেবন করেন। কিছুক্ষণ পর ইউনুস অসুস্থ হয়ে পড়েন।
সোহেল রানা জিজ্ঞাসাবাদে জানান, পরে আনোয়ার তাকে বলেন যে ইয়াবার সঙ্গে ইউনুসকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল। ইউনুস অচেতন হয়ে পড়লে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান জানান, পারিবারিক জটিলতা ও পূর্বের দাম্পত্য বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতের স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার আনোয়ার হোসেনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ে, বিচ্ছেদ ও পুনরায় সংসার নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই ইউসুফ আলী বেনাপোল পোর্ট থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআই যশোরের এসআই রতন মিয়া। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ২৭ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তরিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সবুজ হোসেনকে আটক করা হয়। সর্বশেষ রোববার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় সোহেল রানাকে।
তবে মামলার মূল পরিকল্পনাকারী আনোয়ার হোসেন এখনো পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

